রাজনীতি

ডিআর কঙ্গোতে সংঘর্ষ

কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলো বেলজিয়াম ও রুয়ান্ডা

রাজনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:০০, ১৮ মার্চ ২০২৫;  আপডেট: ০৪:০৮, ১৮ মার্চ ২০২৫

কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলো বেলজিয়াম ও রুয়ান্ডা

অব্যাহতভাবে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে অগ্রসর হচ্ছে এম২৩ এর যোদ্ধারা। ছবি : ডয়চে ভেলে।

বেলজিয়াম ও রুয়ান্ডা নিজ নিজ দেশ থেকে একে অন্যের কূটনীতিকে বহিষ্কার করেছে। দেশ দুটির মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিলো বেলজিয়াম ও রুয়ান্ডা। ডেমোক্রেটিক রিপাকলিক অব কঙ্গোতে চলমান সংঘর্ষ নিয়ে ওই দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার বেলজিয়ামের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় রুয়ান্ডা। একইসঙ্গে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেলজিয়ামের কূটনীতিককে রুয়ান্ডা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। 

ডিআর কঙ্গোতে চলমান সংঘর্ষ নিয়ে বেলজিয়াম ক্রমাগতভাবে রুয়ান্ডাকে অবমূল্যায়ন করে আসছে বলে সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়। 

এ বিষয়ে আরও বলা হয়, ‘আজ আমরা বেলজিয়ামের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সর্ম্পক ছিন্ন করলাম, যা এ মুহূর্ত থেকে কার্যকর হবে।' 

মূলত, কঙ্গোতে চলমান সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে রুয়ান্ডার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বেলজিয়াম আবেদন করেছে বলে অভিযোগ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট পল কাগামে। এর একদিন পরই কূটনীতিক প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্ত নিলো রুয়ান্ডা ।

রুয়ান্ডার এ সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে একে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছে বেলজিয়াম। তবে, একইসঙ্গে নিজ দেশে রুয়ান্ডার কূটনীতিককে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে ব্রাসেলস। 

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেক্সিম প্রিভোট বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি অসাম্যঞ্জস্যপূর্ণ এবং এ থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে আমরা যখনই রুয়ান্ডার কোনো বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করি, তখনই তারা যেকোনো ধরনের আলোচনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।’

কঙ্গো নিয়ে কেন বেলজিয়াম ও রুয়ান্ডার মধ্যে এ সমস্যা : 

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের বড় দুটি শহর নিজেদের দখলে নিয়েছে রুয়ান্ডা সমর্থিত এম২৩ নামের বিদ্রোহী দল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে এ কাজের ব্যাপক সমালোচনা করা হয়েছে। 

কারণ তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এ বিবাদ মূলত ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডার গণহত্যারই সম্প্রসারিত রুপ। একইসঙ্গে কঙ্গোর খনিজ সম্পদ নিয়ে চলা যুদ্ধের সঙ্গেও এটি সম্পর্কিত। 

কিন্তু, এম২৩ দলকে সমর্থনের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে রুয়ান্ডা। তবে, কঙ্গোতে তাদের নিজেদের সেনা দল মোতায়েন রয়েছে বলে স্বীকার করে নেয় দেশটি। এ ক্ষেত্রে কঙ্গোতে বর্তমানে রুয়ান্ডার প্রায় ৪ হাজার সেনা রয়েছে বলে জাতিসংঘের এক হিসেবে জানা যায়।

এদিকে, কঙ্গোতে সংঘর্ষের এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে রুয়ান্ডার সঙ্গে কাঁচামাল নিয়ে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আবেদন জানায় বেলজিয়াম। দেশটি মূলত রুয়ান্ডা ও কঙ্গোর সাবেক উপনিবেশিক শক্তি।

এ বিষয়ে সোমবার এক বিবৃতিতে রুয়ান্ডা জানায়, আঞ্চলিক সংঘর্ষে বেলজিয়াম খুব স্পষ্টভাবে পক্ষপাতিত্ব করছে এবং নানা উপায়ে ক্রমাগতভাবে রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে জনমত তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দেশটি মিথ্যা এবং ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে বিশ্বকে ক্ষেপিয়ে তুলছে। মূলত, রুয়ান্ডাসহ পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করাই তাদের উদ্দেশ্য।’ 

উল্লেখ্য, আজ মঙ্গলবার অ্যাঙ্গোলায় একটি শান্তি আলোচনার দিন ধার্য রয়েছে। সম্প্রতি এ আলোচনায় প্রতিনিধি পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ডিআর কঙ্গো ও এম২৩। মূলত এর পর পরই রুয়ান্ডা ও বেলজিয়ামের মধ্যে এ কূটনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়। 

সূত্র : ডয়চে ভেলে ও আল-জাজিরা।