ইন্দোনেশিয়ায় সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বাড়িয়ে আইন পাস
রাজনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:০১, ২০ মার্চ ২০২৫

কর্ণেল সুহার্তোর `নিউ অর্ডার` স্বৈরশাসনামলে সেনা জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তো।
ইন্দোনিশায় বিদ্যমান সেনা আইন সংশোধন করেছে দেশটির সরকার। এর মধ্য দিয়ে সরকারের বিভিন্ন শাখায় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
নতুন পাস হওয়া সংশোধিত এ আইনের মধ্য দিয়ে এখন থেকে সেনাবাহিনী সরকারের ১৪ টি শাখায় অন্তর্ভুক্ত হবে। এর মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় উল্লেখ্যযোগ্য।
এর আগের আইন অনুযায়ী সেনাবাহিনী সরকারের ১০টি শাখায় দায়িত্ব পালন করতে পারতো। এছাড়া, অন্যান্য সরকারি পদ পেতে হলে সেনা সদস্যদের সেনাবাহিনীর পদ থেকে পদত্যাগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নতুন এ আইনটি সংশোধন করেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনা সদস্য প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো। ইন্দোনেশিয়ার স্বৈরশাসক সুহার্তোর সময়ে তিনি সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে, আইনটি সংশোধনের বিষয়ে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক সেনা প্রযুক্তির কারণে সৃষ্ট নানা সংঘর্ষ এড়ানো ও মোকাবেলায় সেনাবাহিনীতে পরিবর্তন জরুরি। আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের কখনো হতাশ করবো না।’
এদিকে, নতুন আইন অনুযায়ী সরকারে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মতো বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সদস্যদের তাদের বিদ্যমান পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।
তবে, বেসামরিক পদে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি দেশটিকে আবারও সুহার্তোর সময়ে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা অনেক বিশেষজ্ঞের।
কারণ, এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জবাবদিহিতার অভাব দেখা দিতে পারে বলে ইন্দোনেশিয়ার সুশীল সমাজভুক্ত অনেক সংগঠনের আশঙ্কা।
ফলে, বিলটি পাসের সময় এর প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীসহ বহু সচেতন নাগরিক সংগঠন দেশটির সংসদের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হলে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
উল্লেখ্য, কর্ণেল সুহার্তোর শাসনামলে ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনী এক মিলিয়নের বেশি মানুষ হত্যা করে। এছাড়া, তার ‘নিউ অর্ডার’ নামের শাসনামল পূর্ব তিমুরে সংঘটিত গণহত্যায়ও ইন্ধন জোগায়।
সূত্র : ডয়চে ভেলে।