মার্কিন অনুদান বন্ধ ঘোষণা
বিশ্বে এইডসে মৃতের সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে : জাতিসংঘ
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:৫৭, ২৪ মার্চ ২০২৫; আপডেট: ২৩:০৯, ২৪ মার্চ ২০২৫

বর্তমানে অতিরিক্ত আরও ৮৭ লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হবে বলে বিয়ানইয়েমা জানান।
এইডসে ভবিষ্যতে আরও ৬০ লাখ অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হবে। আজ সোমবার জাতিসংঘের এইচআইভি/এইডস মহামারি সংক্রান্ত প্রকল্প ইউএনএইডস এ সতর্কবার্তা জানায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ প্রকল্পের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ হওয়ায় তাদের এ সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করবে। ইউএনএইডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উইনি বিয়ানইয়েমা এ কথা জানান।
জেনেভায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত ২৫ বছর আমাদের যা অর্জন, তার সবই আজ হুমকীর মুখে।’
বিয়ানইয়েমা আরও বলেন, ‘মার্কিন সহায়তা যদি চালু না হয় এবং এর বিকল্প খুঁজে না পাওয়া যায়- অন্য কোনো সরকার থেকে এখনও কোনো প্রকার আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে না - আর, এভাবে চলতে থাকলে আগামী চার বছরে অতিরিক্ত ৬৩ লাখ মানুষ এইডসে মারা যাবে।’
এর আগে, ২০২৩ সালে সর্বশেষ এইডসে মৃত্যুর সংখ্যা হালনাগাদ করা হয়। সে সময় এ রোগে মৃতের সংখ্যা ছিলো ৬ লাখ।
কিন্তু, বর্তমানে অতিরিক্ত আরও ৮৭ লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হবে বলে বিয়ানইয়েমা জানান। এ অবস্থায়, সহায়তার জন্য কোনো দেশ এগিয়ে না এলে এইডস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়বে এবং পরিস্থিতি ১৯৯০ এর দশকের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
বিয়ানইয়েমা এ বিষয়ে বলেন, ‘সমস্যাটি এখন আর আফ্রিকার মতো স্বল্প আয়ের দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং পূর্ব ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যতে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখতে পারবো। আমরা দেখতে পারবো যে, এ রোগ আবারও মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে; আমরা দেখতে পারবো যে, পরিস্থিতি আবার ৯০ এর দশক ও এর পরবর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন নির্বাহী আদেশ দিয়ে যাচ্ছেন। এসব আদেশে তিনি অনেক আন্তর্জাাতিক প্রকল্প ও বরাদ্দই বাতিল করে দিচ্ছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় দেওয়া অনুদানের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
তবে, এইডস নির্মূলের জন্য বরাদ্দ এ সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে। ফলে, বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতে হোয়াইট হাউসের প্রতি আবেদন জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এ বিষয়ে বিয়ানইয়েমা বলেন, ‘এটা যুক্তিসঙ্গত যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের তহবিলের পরিমাণ কমিয়ে আনবে; কিন্তু, জীবন রক্ষাকারী একটি তহবিলের পরিমাণ হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি আমরা আবারও ভেবে দেখার এবং জীবন রক্ষাকারী এ সেবাটি আবারও সচল করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
সূত্র : ডয়চে ভেলে।